তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ধারাবাহিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এবার সেই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হলেন এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সরাসরি কারও নাম না নিলেও, তাঁর বক্তব্য যে মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করেই করা, তা রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে স্পষ্ট।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, তাঁদের সম্পর্কে করা কিছু মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্মানকেও আঘাত করছে। তিনি জানান, বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তা তাঁরা সম্পূর্ণভাবে মেনে নিয়েছেন এবং সেই রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করেছেন।
কাকলির কথায়, “আমাদের সামাজিক সম্মান রয়েছে। মানুষের রায় আমরা মাথা পেতে নিয়েছি। কিন্তু এমন কিছু মন্তব্য করা হচ্ছে যা আমাদের সম্মানহানি করছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেই পদক্ষেপ দেখা যাবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, মানুষের স্বার্থে এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পথে এগোচ্ছেন। একইসঙ্গে আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়ে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আবেদন করে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জমা দেওয়া ওই আবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন মহুয়া মৈত্রও।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মহুয়া মৈত্র বলেন, “এই দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের কর্মীদের দীর্ঘ পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে। কেউ চাইলে অন্য দলে যেতে পারেন, তবে দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ ব্যক্তিকে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকেই সমর্থন করেছেন।”
মহুয়ার এই মন্তব্যের পর কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।