তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও মেয়ের কোনও সন্ধান মেলেনি। প্রতিদিন নতুন আশায় দিন শুরু হলেও রাত নামছে আরও গভীর উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা নিয়ে। সেই না-পাওয়ার যন্ত্রণা বুকে নিয়েই এবার পথে নেমেছেন এক অসহায় বাবা।
বুকে ও পিঠে মেয়ের ছবি-সহ একটি প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। সেখানে লেখা রয়েছে মেয়ের নাম, শারীরিক বর্ণনা এবং পরিবারের যোগাযোগের তথ্য। একটাই আবেদন— যদি কেউ তাঁর মেয়েকে কোথাও দেখে থাকেন, তবে যেন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বীরভূম জেলার সিউড়ির ডাঙালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ২৪ বছরের অমৃতা সিংহ গত ১৩ মার্চ দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেননি। পরিবারের দাবি, বেরোনোর সময় তাঁর সঙ্গে কোনও মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা বা প্রয়োজনীয় সামগ্রীও ছিল না।
মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় পরিবারের মরিয়া খোঁজ। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিচিত মহলে খোঁজ চালানো হয়। পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অমৃতা বাসে করে মল্লারপুর পর্যন্ত গিয়েছিলেন। এরপর তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
অমৃতার বাবা অর্ধেন্দু সিংহ জানান, তাঁর মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন ছিল। চাকরি, আত্মনির্ভরতা এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখত সে। কিন্তু হঠাৎ করেই সে কোথায় হারিয়ে গেল, সেই উত্তর আজও অধরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ এবং সামাজিক মাধ্যমেও প্রচার চালানো হয়েছে। তবুও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্র মেলেনি। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সহযোগিতার আশায় রামপুরহাট, রাজগ্রাম-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে আবেদন জানাচ্ছেন অমৃতার বাবা।
তাঁর কণ্ঠে একটাই আর্তি— “আমার মেয়েকে যদি কোথাও দেখে থাকেন, দয়া করে আমাকে খবর দিন।”
এই ঘটনা শুধুমাত্র একজন নিখোঁজ তরুণীকে খোঁজার লড়াই নয়, বরং একজন বাবার অবিচল ভালোবাসা ও সন্তানের প্রতি অশেষ টানের এক হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ। আজও প্রতিটি মুহূর্তে মেয়ের ফেরার আশায় দিন গুনছে পরিবার।