নয়া দিল্লি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গন বর্তমানে উত্তপ্ত। বিরোধী দলগুলির জোট ‘ইন্ডি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতদিন পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইস্তফা না দিচ্ছেন, ততদিন তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির মধ্যেই বিরোধী সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সম্মত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই এই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ হতে পারে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনে ওই প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। ১০ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে পারে বলেও জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডি জোটের বিভিন্ন বৈঠকে বাংলার শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী শিবিরের এই প্রতিবাদ আন্দোলন ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে।
গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর রাজপথে লাগাতার কর্মসূচি পালন করে চলেছেন ইন্ডি জোটের সাংসদরা। এর আগে মঙ্গলবার সংসদের মকর দ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পৌঁছানোর আগেই আকাশবাণী ভবনের সামনে পুলিশি ব্যারিকেডে আটকে দেওয়া হয় বিরোধী সাংসদদের। এরপর সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সহ একাধিক বিরোধী সাংসদ।
পরবর্তী দিনগুলিতেও এই আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হয়। গত বুধবার মধ্যাহ্নভোজের পর ফের রাজপথে নামে ইন্ডি জোট। বিশেষ করে, বুধবারের এই কর্মসূচিতে আম আদমি পার্টি বা আপ-এর অংশগ্রহণ রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, মঙ্গলবারের প্রতিবাদ মিছিলে ইন্ডি জোটের বাইরে থাকা বিজু জনতা দল (বিজেডি)-এর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রথম দু’দিনের কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত না থাকা তৃণমূলের অন্যান্য সাংসদেরাও পরবর্তী পর্যায়ে এই আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন বলে খবর রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের পর জাতীয় স্তরে বিভিন্ন বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ বাড়াতে সচেষ্ট হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন জানানো এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলিও ইতিমধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, ইন্ডি জোটও এই মুহূর্তে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলকে সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলনের পথেই হাঁটছে। তবে এই জোটের সামগ্রিক কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ মূলত কংগ্রেস নেতৃত্বের হাতেই রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।