প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাতের মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল। সোমবার সন্ধ্যায় দুই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়। নন্দীগ্রামে এহতাশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখকে প্রার্থী করেছে ঋতপন্থী শিবির।
উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই দুই তৃণমূলের লড়াই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। কালীঘাটপন্থী ও ঋতপন্থী শিবিরের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি হলে তার প্রভাব নির্বাচনের ফলে কতটা পড়বে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই তৃণমূলের পারস্পরিক সংঘাতও এই উপনির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর আগে কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে দুই কেন্দ্রেই এবার মুখোমুখি হতে পারে তৃণমূলের দুই শিবির। দলীয় প্রতীক নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির এবং ঋতব্রতপন্থীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের দাবি, বক্তব্য ও নথিপত্র জমা দিয়েছে। একইসঙ্গে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়েও আদালতে আইনি লড়াই চলছে।
নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হতে পারেন—এমন জল্পনা বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল। ঋতপন্থী শিবির জানিয়েছিল, মমতা নিজে প্রার্থী হলে তারা নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেবে না। শেষ পর্যন্ত মমতা প্রার্থী না হওয়ায় এদিন নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ঋতপন্থী তৃণমূলও ‘জোড়াফুল’ প্রতীকেই নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা করেছে। সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁরাই ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কারণেই জোড়াফুল প্রতীক নিয়েই প্রচারে নামবেন তাঁরা। প্রতীক সংক্রান্ত নিজেদের বক্তব্য ও নথি কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের শুনানি এবং ১৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ফলে তার আগেই প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। একই প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের প্রার্থী থাকলে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।