বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা ক্রমশ তীব্র হয়েছে। একের পর এক নেতার দলবদলের আবহে এবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজাকে ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা। তিনি কি তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
এই আবহে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ শশী পাঁজাকে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই কার্যত জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না শশী পাঁজাকে। কুণাল বলেন, “নির্বাচনের পর থেকে শশী পাঁজাকে কোথাও দেখা যায়নি। তাঁর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় কর্মীরা গ্রেফতার হলেও তাঁদের পাশে তাঁকে দেখা যায়নি।”
শশী পাঁজার দলত্যাগের জল্পনার সূত্রপাত একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। এক বর্তমান সাংসদের পুত্র সমাজমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, শশী পাঁজা খুব শীঘ্রই তৃণমূল ছাড়তে পারেন। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর জল্পনা।
এদিকে শশী পাঁজার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তিনি ফোন ধরেননি এবং পাঠানো বার্তারও উত্তর দেননি।
সূত্রের খবর, পেশায় চিকিৎসক শশী পাঁজা সম্প্রতি ঘোষ দস্তিদার ফার্টিলিটি ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। সেখানে এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তবে অন্য একটি সূত্রের দাবি, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কারণেই ওই ক্লিনিকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে জল্পনা তৈরি হলেও, রাজনৈতিক তাৎপর্যের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য সামনে আসেনি।
এখনও পর্যন্ত শশী পাঁজা তৃণমূল ছাড়ছেন বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন—এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চললেও বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।