উইকেন্ড মানেই ‘বিগ বস বাংলা’-র (Big Boss Bangla) ঘরে টানটান উত্তেজনা। সপ্তাহভর ঝগড়া, মান-অভিমান ও নানা বিতর্কের পর দর্শকদের নজর থাকে ‘দাদার দরবার’-এর দিকে। কারণ, সেখানেই হয় সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। দর্শকদের ভোটে ‘বিগ বস বাংলা’ থেকে বিদায় নিলেন জয়িতা চট্টোপাধ্যায়।
এদিনের পর্বের শুরুতেই প্রতিযোগীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “খেলাটা মনে রাখতে হবে পুরোপুরি নিজেদের। অন্য কাউকে যতই পছন্দ হোক না কেন, ময়দানে নিজের জন্যই খেলতে হবে।”
এরপর এলিমিনেশন নিয়ে প্রতিযোগীদের মতামত জানতে চান সৌরভ। সেখানে একাধিক প্রতিযোগী জয়িতার নাম নেন। দীপেন্দু বিশ্বাসের সঙ্গে ঝিলম, নিরঞ্জন ও সায়কও জয়িতার বিদায়ের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ভরত কল, রাজবীর দে, নন্দিনী ও মনামী অ্যালেক্সের নাম উল্লেখ করেন। সোহিনী ও সোনামণি আবার দুর্নিবার সাহার বিদায় হওয়া উচিত বলে মনে করেন।
টানটান পরিস্থিতির মধ্যেও জয়িতার সঙ্গে একটি মজার খেলায় মেতে ওঠেন সৌরভ। নিয়ম ছিল, দাদা যা বলবেন, জয়িতাকে তার বিপরীত উত্তর দিতে হবে। এই খেলাতেই উঠে আসে জয়িতার পুরনো একটি মন্তব্য—‘তোমার জীবনে আমার কোনও অস্তিত্ব নেই!’ দুর্নিবারের সঙ্গে বচসার সময় বলা সেই মন্তব্য নিয়ে আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চা হয়েছিল। পুরনো প্রসঙ্গ ফের সামনে আসতেই হাসিতে ফেটে পড়েন প্রতিযোগীরা।
এরপর রাজবীরকেও একটি মজার টাস্ক দেন সৌরভ। নাচ-গান ও হাসি-মজায় কিছুটা হালকা হয়ে ওঠে পরিবেশ।
তবে পর্বের শেষে আসে কঠিন ঘোষণা। দর্শকদের ভোটে ‘বিগ বস বাংলা’ থেকে বাদ পড়েন জয়িতা। শো-তে শুরু থেকেই তাঁর একাধিক মন্তব্য ও আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অন্যান্য প্রতিযোগীর সঙ্গে বচসা এবং তাঁর কিছুটা আগ্রাসী মনোভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ঘরের অন্দরেও একাধিক প্রতিযোগীর সঙ্গে তাঁর সমীকরণ খুব একটা ভালো ছিল না। দীপেন্দু, ঝিলম-সহ কয়েকজন প্রতিযোগীও বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন। শেষ পর্যন্ত দর্শকদের ভোটে সেই যাত্রার ইতি হল।
জয়িতার বিদায়ের পর ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরের সমীকরণ এবার কোন দিকে বদলায়, সেদিকেই নজর দর্শকদের।