কলকাতা: অভিনেতা তথা ঘাটালের সাংসদ দেবের বাড়ির গণেশ পুজোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দেবের বাড়িতে আয়োজিত এই পুজোয় একই ছাদের নিচে দেখা মিলল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের উপস্থিতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট নেতাদের এই উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও, প্রত্যেকেই এটিকে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ বলে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে দেবের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তাঁর বাড়িতে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যও। পুজোয় অংশ নেওয়ার পর সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই সাক্ষাতের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ জড়িয়ে নেই। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, দেবের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং বন্ধুর আমন্ত্রণ রক্ষা করতেই তিনি এখানে এসেছেন।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক গন্ধ খুঁজবেন না। দেবের সঙ্গে আমার বহু পুরনো সম্পর্ক। দেব ২০২৪ সালে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে প্রচারে গিয়েছিল। তখন মঞ্চ থেকে বলেছিল যে ভাল ব্যক্তি সেই জিতবে। আমার ওর উদারতা ভাল লেগেছিল। একজন বন্ধু, দাদা হিসাবে ওর পুজোয় আমন্ত্রণ রক্ষা করতে আমি এসেছি।” অতীতে প্রশাসনিক বৈঠকেও দেবের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের নজির দেখা গিয়েছে। এ দিনও দেব ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে সময় কাটাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে।
অন্যদিকে, এই পুজোয় অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও। দেবের সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এলেও, এ দিনের অনুষ্ঠানে তা সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রাখা হয়। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে কুণাল লেখেন, “অরাজনৈতিক এবং সৌজন্য। দেবের বাড়ির গণেশ পুজোর আমন্ত্রণে। কিছুক্ষণ আড্ডাও হল। অতীতে আমি কিছু বিষয়ে ওর ইস্যুভিত্তিক বিরোধিতা করেছি। তারপর সুসম্পর্কও হয়েছে। ক’দিন আগে ‘দাদাগিরি’ করে এলাম।”
রাজনৈতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও দেবের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার কথা বলেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা হলেও দেবের মতো তারকার সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় রাখাই কাম্য। তিনি আরও লেখেন, “ওর রাজনৈতিক অবস্থান যা হোক বা যে কারণেই হোক, দেবের সঙ্গে এই পরিচয়টা রাজনীতির ঊর্ধ্বেই থাকুক। আর একদা আমি রাজনীতির ইস্যুতে ওর মত একনম্বর তারকার যা বিরোধিতা করেছি, আজ অরাজনৈতিক সুসম্পর্কের জন্য কোনো ব্যাখ্যা বা কৈফিয়ত দিলাম না। দেব চলচ্চিত্রজগতে ভালো থাকুক।”
সব মিলিয়ে, দেবের বাসভবনের গণেশ পুজোয় শাসক ও বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের এই সমাগম এবং তাঁদের খোশগল্প রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করলেও, সংশ্লিষ্ট তিন পক্ষেরই স্পষ্ট বার্তা—এটি একান্তই ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সৌজন্যের অনুষ্ঠান। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি বা সমীকরণ খোঁজার অবকাশ নেই।