ফের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বড়সড় প্রাণহানি। তারাপীঠের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ভোররাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ছ’জন পুরুষ, দু’জন মহিলা এবং একটি শিশুও রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টা নাগাদ হোটেলের একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন এবং ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে বিল্ডিংয়ের একাধিক অংশে। ভিতরে বেশ কয়েকজন আটকে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। দমকলের একাধিক ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।উদ্ধারকারীরা হোটেল থেকে কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায় বের করে আনেন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আরও ছ’জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।প্রাথমিক রিপোর্টে আরও উঠে এসেছে, ভবনটির সরু সিঁড়ি এবং পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থার অভাব উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছিল। ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘুমন্ত আবাসিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেকেই বেরোতে সমস্যায় পড়েন।ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, হোটেল ও সংশ্লিষ্ট ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না। পুলিশ ও দমকল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র কয়েক দিন আগেই তারাপীঠের একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে সেখানেও বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
তারাপীঠের ঘটনায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং ধোঁয়ার কারণে বহু আবাসিক সমস্যায় পড়েছিলেন। ওই ঘটনার পর হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। তার পরেই কলকাতার হোটেলে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন মূলত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে—ভবনে পর্যাপ্ত ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা ছিল কি না, জরুরি সময়ে বেরিয়ে আসার পর্যাপ্ত রাস্তা ছিল কি না এবং হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তদন্ত শেষ হলেই তা স্পষ্ট হবে। তবে পরপর দু’টি হোটেল অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় রাজ্যের হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।