তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসকে কেন্দ্র করে ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন। আগামী ২৮ অগস্ট প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলকাতার মেয়ো রোডে সভা করার অনুমতি পাওয়া নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন করে চাপানউতোর।
প্রতি বছরই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মেয়ো রোডে বড় কর্মসূচি করে থাকে তৃণমূলের মূলধারার শিবির। এবারও সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, একই দিনে একই জায়গায় কর্মসূচি করার জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও। ফলে একই জায়গায় দুই পক্ষের কর্মসূচির আবেদন ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
কালীঘাটপন্থী টিএমসিপির অভিযোগ, মেয়ো রোডে প্রতিষ্ঠা দিবসের সভার অনুমতি চেয়ে গত ২৭ জুলাই কলকাতা পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ৩ অগস্ট এবং ৭ অগস্ট ফের চিঠি দিয়ে অনুমতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু পুলিশের তরফে কোনও স্পষ্ট জবাব মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।
এরপরই সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাটপন্থী টিএমসিপি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁদের আইনজীবী বিষয়টি জানান। একই দিনে মেয়ো রোডে অন্য একটি শিবিরের কর্মসূচির জন্যও পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে আদালতে বিষয়টি উঠে আসে।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের তরফেও জানানো হয়েছে, ২৮ অগস্ট মেয়ো রোডে টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি পালনের জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবসের মূল কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত মেয়ো রোড এবার দুই শিবিরের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়েও তৃণমূলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন শিবিরের অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল। এবার টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবসকে সামনে রেখে একই জায়গায় দুই পক্ষের সভার সম্ভাবনা সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন, মেয়ো রোডে ২৮ অগস্টের কর্মসূচির জন্য শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষকে পুলিশ অনুমতি দেয়? পাশাপাশি, কলকাতা হাই কোর্ট এ বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
তবে দুই শিবিরের কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও সামনে আসেনি। ফলে প্রতিষ্ঠা দিবসের আগে মেয়ো রোডের সভা ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা।