অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ‘পুশব্যাক’ নীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) কেন্দ্র জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি যে কোন দেশের নাগরিক, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সেই দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। নাগরিকত্ব যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমোদন ছাড়া কাউকে ফেরানো আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেও কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে।অসমের বিভিন্ন বন্দিশিবিরে বর্তমানে প্রায় ২৭০ জন বিদেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তি আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৩ জনকে ইতিমধ্যেই বিদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে জানায়, কাউকে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করার পর তাঁকে অনির্দিষ্টকাল বন্দিশিবিরে আটকে রাখা যায় না। পরবর্তী পদক্ষেপ যুক্তিসঙ্গত ও আইনসম্মত হতে হবে।এর জবাবে কেন্দ্র হলফনামা দিয়ে জানায়, কোনও বিদেশিকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরানো সবসময় সম্ভব হয় না। কারণ সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে প্রথমে ওই ব্যক্তির পরিচয়, নাগরিকত্ব ও ঠিকানা যাচাই করতে হয়। সেই দেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিললেই কেবল প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, কোনও বিদেশির প্রকৃত নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হলে বা সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস তাঁর পরিচয় স্বীকার না করলে তাঁকে ফেরানো যায় না। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতে কোনও ফৌজদারি মামলা না থাকলেও, শুধুমাত্র নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।সরকারি সূত্রে দাবি, অসমের বন্দিশিবিরে আটক বহু ব্যক্তির পরিচয় এখনও বাংলাদেশ সরকার নিশ্চিত করেনি। ফলে তাঁদের প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।কেন্দ্রের বক্তব্য, বেআইনি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং এই বিষয়ে কোনও আপসের প্রশ্ন নেই। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মেনেই প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করতে হয়। প্রতিবেশী দেশগুলির সহযোগিতা না মিললে সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়াই স্বাভাবিক।