বীরভূমের পাথর ও বালি ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আর্থিক সাম্রাজ্যের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। টুলুর বিরুদ্ধে অবৈধ পাথর খাদান পরিচালনার অভিযোগের তদন্তে নেমে এবার জেলার একাধিক খাদানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই আটটি অবৈধ পাথর খাদান বন্ধের নোটিস জারি করা হয়েছে।জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, মহম্মদবাজার ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক আনন্দ বিশ্বাসের নেতৃত্বে দেওয়ানগঞ্জ মৌজায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আপেল মোর্তাজার পাথর খাদানে বন্ধের নোটিস টাঙানো হয়েছে। পাশাপাশি শেখ করিবুল, মনোজ টুডু, সারতাজ মোল্লা, শুভধন টুডু এবং সুনীল সোরেন-সহ একাধিক ব্যবসায়ীর খাদানেও একই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনে খুব শীঘ্রই এসব খাদান বন্ধ করতে অভিযানও চালানো হবে।
এর আগেও গত মাসে মহম্মদবাজার এলাকায় নয়টি পাথর খাদানে একই ধরনের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এবার তদন্তের গতি আরও বাড়ায় প্রশাসনের নজর পড়েছে জেলার অন্যান্য সন্দেহভাজন খাদানগুলিতেও।এদিকে টুলু মণ্ডলের বিস্তীর্ণ ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। তদন্তকারীদের নজর এখন তাঁর আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র এবং মূল ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলির দিকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া টুলুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিনার মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে খুব শীঘ্রই মহম্মদবাজার থানার সোঁতশাল এলাকায় অবস্থিত টুলু মণ্ডলের মূল অফিসে ফের তল্লাশি চালানো হতে পারে।
শনিবার মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের একটি পার্কিং এলাকা থেকে প্রায় ১৬ লক্ষ কিউবিক ফুট (CFT) পাথর বাজেয়াপ্ত করেছে ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। প্রশাসনের অভিযোগ, ওই বিপুল পরিমাণ পাথর বেআইনিভাবে মজুত করা হয়েছিল।অন্যদিকে, টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক পাথর ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্তও জোরদার হয়েছে। টুলুর ভাগ্নে আপেল মোর্তাজার বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সেই অভিযানের পর তাঁর পাথর খাদানেও বন্ধের নোটিস টাঙানো হয়েছে।টুলু মণ্ডলকে ঘিরে দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বীরভূমের পাথর শিল্পে বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান আরও তীব্র হচ্ছে।