লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক গুরুতর অনিয়মের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, যে ভবনে কোচিং সেন্টারটি চলছিল সেটি মূলত একটি আবাসিক ভবন ছিল। পরবর্তীতে নিয়ম না মেনেই সেটিকে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর করা হয়।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ২০১৬ সালে ওই ভবনের বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে মাত্র দু’মাসের মধ্যেই সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনটির মালিক ছিলেন বীরেন্দ্রপ্রসাদ শুক্লা, সুরেন্দ্র শুক্লা এবং ধীরেন্দ্র শুক্লা। ইতিমধ্যেই বীরেন্দ্রপ্রসাদ শুক্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে লটারির মাধ্যমে প্রথম এই বাড়িটি বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে একাধিকবার মালিকানা পরিবর্তনের পর ২০১৩ সালে বীরেন্দ্রপ্রসাদ শুক্লার হাতে যায় সম্পত্তিটি। অভিযোগ, ২০১৪ সালেই ভবনটিকে আবাসিক ব্যবহার থেকে বাণিজ্যিক কাজে রূপান্তর করা হয়।
এরপর সেখানে দোকান, পোষ্য প্রাণীর ক্লিনিক, অ্যানিমেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং কোচিং সেন্টার চালু করা হয়। তবে ভবনের মূল কাঠামোয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়নি। তদন্তে জানা গিয়েছে, পুরো ভবনে কোনও ফায়ার এক্সিট ছিল না এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল।

দুর্ঘটনার সময় বহু মানুষ বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও অটোমেটিক দরজার কারণে সমস্যার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। ফলে অনেকেই ভবনের ভিতরে আটকে পড়েন এবং প্রাণ হারান।
প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে অনুমান করছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি চারজন সরকারি আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অনুমোদন ছাড়া কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না, এখন সেই প্রশ্নই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।