তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি ঘিরে ক্ষমতার লড়াইয়ে। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন শিবির নতুন কমিটি গঠনের দাবি তুলেছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নতুন জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন। ফলে কোন কমিটি বৈধ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আজকের বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি। আমরা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের বিষয় এবং দলের আর্থিক তদন্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা স্পেশাল অডিটর নিয়োগের দাবিও জানিয়েছি।”
একইসঙ্গে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে একাধিক মন্তব্য করেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। তাঁদের বক্তব্য, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শেষবার জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠিত হয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। তাই সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই তাঁরা নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এদিকে ঠিক সেই সময়েই পালটা পদক্ষেপ নেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। সূত্রের খবর, নতুন জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া রাজ্য সভানেত্রী হিসেবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক পদে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে শুভাশিস চক্রবর্তীর নাম রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে আরও একটি বিষয়। ৫ জুনের কমিটিতে অরূপ বিশ্বাসের নাম থাকলেও নতুন তালিকায় তাঁর নাম নেই বলে সূত্রের দাবি।
সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ সাংগঠনিক অধিবেশনও আয়োজন করে ঋতব্রত শিবির। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়-সহ একাধিক নেতা। বৈঠকে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন মূল লড়াই গড়াবে নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায়। কোন কমিটি বৈধ এবং দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর অনেকটাই নির্ভর করবে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্তও পৌঁছতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।