TMC Suspends Firhad Hakim , Aroop Biswas: দলের অন্দরে চলতে থাকা টানাপোড়েন এবং সাংগঠনিক ভাঙনের আবহে বড় পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো শিবির। সংগঠনকে নতুন করে শক্তিশালী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
সূত্রের দাবি, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র এবং সবিনা ইয়াসমিনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, আপাতত কোনও নতুন পদাধিকারী নিয়োগে তাড়াহুড়ো করা হবে না। সংগঠনের প্রয়োজন, সাংগঠনিক শক্তি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল পর্যালোচনা করেই ধাপে ধাপে নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।
তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের মতে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার উপর নির্ভর না করে সংগঠনের পুরনো কাঠামোকে আরও মজবুত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই বুথ স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জনসংযোগ বাড়াতে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এবার থেকে সপ্তাহের প্রতিদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘জনতার দরবার’ নামে এই কর্মসূচি প্রাথমিকভাবে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কলকাতার কালিঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে তৃণমূল ভবনেও একই ধরনের কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দলের মতে, মানুষের সমস্যা সরাসরি শোনা এবং কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে রাজনৈতিক সংঘাত এবং সাংগঠনিক বিরোধের আবহে আপাতত আইনি লড়াইয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরনো শিবির। দলীয় সূত্রের দাবি, এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন বা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনভিত্তি পুনর্গঠনের উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় ভাঙনের আবহে সংগঠন ধরে রাখতে এবং কর্মীদের মধ্যে নতুন বার্তা দিতে এই সিদ্ধান্তগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।