গত কয়েকদিন ধরে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞই প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁর ফর্ম, ফিটনেস এবং প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে। কিন্তু সব বিতর্কের উত্তর দিলেন মাঠে। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জোড়া গোল করে ফের প্রমাণ করলেন, তিনি এখনও বড় মঞ্চের নায়ক।
ম্যাচের আগে একটি পরিসংখ্যান ঘুরে বেড়াচ্ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশ্বকাপ এবং ইউরো মিলিয়ে টানা ১০টি বড় টুর্নামেন্টের ম্যাচে গোল পাননি রোনাল্ডো। শেষবার বিশ্বকাপে গোল করেছিলেন ২০২২ সালে ঘানার বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে। তারপর দীর্ঘ গোলখরা চলছিল তাঁর।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করেছিলেন, পর্তুগালের প্রথম একাদশে আর রোনাল্ডোর জায়গা নেই। কিন্তু কোচ রবার্তো মার্টিনেজ নিজের অধিনায়কের উপর ভরসা রেখেছিলেন। আর সেই আস্থার মর্যাদা দিলেন সিআর সেভেন।
ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েন রোনাল্ডো। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি পৃথক বিশ্বকাপ আসরে গোল করার নজির গড়েন তিনি। এই রেকর্ড এখন তাঁর একার দখলে।
এরপর ৩৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে আরও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন পর্তুগিজ মহাতারকা। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০। ফলে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কিংবদন্তি ইউসেবিওকে পিছনে ফেলে শীর্ষে উঠে আসেন রোনাল্ডো। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইউসেবিওর করা ৯ গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি।
শুধু গোল করাই নয়, দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও নজর কেড়েছেন রোনাল্ডো। একটি ফ্রি-কিকের সুযোগ পেয়ে নিজে শট না নিয়ে তরুণ সতীর্থ মেন্দেসকে দায়িত্ব দেন। ম্যাচজুড়ে তাঁর নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতা পর্তুগালের খেলায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
হ্যাটট্রিক করার সুযোগ থাকলেও ব্যক্তিগত কৃতিত্বের চেয়ে দলগত সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন রোনাল্ডো। সমালোচকদের একাংশ তাঁকে স্বার্থপর বলে আখ্যা দিলেও, এই ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স যেন সেই অভিযোগেরও জবাব দিয়েছে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর বিরুদ্ধে গোল করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রোনাল্ডো। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই তিনি দেখিয়ে দিলেন, বয়স শুধুই একটি সংখ্যা। বড় মঞ্চে কীভাবে ফিরে আসতে হয়, তা এখনও ভালোভাবেই জানেন পর্তুগালের অধিনায়ক।
সিউ সেলিব্রেশনে মাতোয়ারা স্টেডিয়াম যেন আর একবার মনে করিয়ে দিল— ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর গল্প এখনও শেষ হয়নি।