বর্ধমান থেকে জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-যোগের অভিযোগে হামিদ মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, জইশের নজরে শুধু তিনিই ছিলেন না, রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইও এই সম্ভাব্য টার্গেট তালিকায় ছিলেন। তবে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু আমি নই। আমাদের এমওএস উমেশ রাইও এই স্ক্যানারে ছিলেন। আগামীকাল এসটিএফ সাংবাদিক বৈঠক করে সব তথ্য জানাবে।”
তিনি আরও জানান, তদন্ত এখনও চলছে এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শুভেন্দুর কথায়, “এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। তাই এখনই সবকিছু বলা সম্ভব নয়। এসটিএফ তদন্ত শেষ করে বিস্তারিত জানাবে।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ আবাসন থেকে হামিদ মণ্ডল নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরসূচি, যাতায়াতের রুট, কর্মসূচির সময়সূচি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল এবং সম্ভাব্য হামলার উদ্দেশ্যেই এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, একাধিক ভিআইপি ব্যক্তির সফরসূচির তথ্যও ধৃতের কাছে ছিল। সেই তালিকায় মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের নামও রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসটিএফ এখন ধৃতের যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের দাবি, পুরো তদন্ত শেষ হওয়ার পরই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।