বীরভূমের তথাকথিত ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের বিপুল সম্পত্তি এবং আর্থিক অনিয়মের তদন্তে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টুলু মণ্ডলের নামে বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তি ও নগদের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এত বড় আর্থিক সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা কোনওভাবেই একদিনে সম্ভব নয় এবং এর নেপথ্যে তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তে আরও উদ্ধার হয়েছে ৩টি টাকা গোনার মেশিন, একটি কম্পিউটার ও সিপিইউ, দুটি পেনড্রাইভ।
শুধু তাই নয়, টুলুর মালিকানাধীন বলে দাবি করা ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার এবং বিএমডব্লিউ, অডি-সহ মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার কথাও জানান তিনি। এছাড়াও তদন্তে মোট ২১টি সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, একটি ফার্মহাউস, দুটি পেট্রল পাম্প, একটি পার্কিং এলাকা, দুটি স্টোন ক্রাশার ইউনিট এবং প্রায় ৩০০ বিঘা জমি, যা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্নীতির মূলচক্রীদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এত বড় আর্থিক সাম্রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠলেও তা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যেতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের মদত ছাড়া এত বড় দুর্নীতি সম্ভব নয় এবং গোটা বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর অনুমান, গত ৪ মে-র পরই টুলু দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। তবে রাজ্য পুলিশের তদন্তের উপর পূর্ণ আস্থা রেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্তকারীরা খুব শীঘ্রই তাঁকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হবেন।