রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, অবকাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরকারি কর্মীদের সুবিধাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত একাধিক বড় ঘোষণা করেন, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা (DA) বৃদ্ধি। বর্তমানে ১৮ শতাংশ DA পাওয়া কর্মীরা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মোট ৩৮ শতাংশ DA পাবেন। একইসঙ্গে পেনশনভোগীদের জন্যও ২০ শতাংশ ডিয়ারনেস রিলিফ (DR) বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি চাকরিতে ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি ২০ হাজার পুলিশ কর্মী এবং প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও বাজেটে জানানো হয়েছে। যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে ১০ শতাংশ পদ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
শিক্ষা ও সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নয়নে একাধিক নতুন উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় বিনামূল্যে কোচিং সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি আদর্শ বিদ্যালয় প্রকল্পে ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সংস্কৃত কলেজ ও সংস্কৃত ভাষার উন্নয়নের জন্যও ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আশাকর্মীদের মাসিক সম্মানিক ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, গ্রিন পুলিশ ও হোমগার্ডদের পারিশ্রমিক মাসে ২ হাজার টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘ভরসা’ নামে নতুন একটি কর্মসূচি চালুর ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাস থেকে চালু হওয়া এই প্রকল্পে স্নাতক বেকারদের মাসে ৩ হাজার টাকা এবং অন্যান্য যোগ্য বেকারদের মাসে ২ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অবকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক বড় প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কল্যাণীর কাছে নতুন গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনার পাশাপাশি পুরুলিয়া, মালদহ ও বালুরঘাটে বিমানবন্দর গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম এবং রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণের কথাও জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগ— এই পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের প্রস্তাবও বাজেটে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি কাঁথিতে নতুন পুলিশ জেলা এবং গোপীবল্লভপুরে নতুন মহকুমা তৈরির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং ধর্মীয় স্থানের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান, সরকারি কর্মীদের সুবিধা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং সামাজিক সুরক্ষাকে সামনে রেখে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম বাজেট একাধিক বড় ঘোষণা ও জনমুখী পদক্ষেপে নজর কেড়েছে।