বীরভূমে প্রায় ২৮.৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড়। এবার ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের একাধিক ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালাল জেলা পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থের সঙ্গে টুলু মণ্ডলের যোগ থাকতে পারে। তবে ঘটনার পর থেকেই তিনি কার্যত নিখোঁজ।বৃহস্পতিবার সিউড়ির সুভাষপল্লিতে তাঁর বাড়ি, সোঁতশালের একটি বাড়ি এবং মহম্মদবাজারের একটি পার্কিং-সহ একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসপি (ডিইবি), ডিএসপি (সদর), সিউড়ি থানার আইসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক। তদন্তকারীরা সম্পদের উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মিনার মণ্ডলের স্ত্রী দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ তাঁদের নয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ওই টাকা টুলু মণ্ডলের হতে পারে এবং তা মিনার মণ্ডলের বাড়িতে গচ্ছিত রাখা হয়েছিল। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও সামনে আসেনি।স্থানীয় সূত্রের দাবি, দিনমজুরির কাজ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন টুলু মণ্ডল। পরে পাথর পরিবহণ ব্যবসায় প্রবেশ করে ধীরে ধীরে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে পাথর ব্যবসা, টোল গেট পরিচালনা এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার জোরে তাঁর ব্যবসার পরিধি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অভিযোগ, ২০১৬ সালের পর একাধিক টোল গেট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তাঁর আর্থিক উত্থান আরও দ্রুত হয়।এদিকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় প্রকৃত মালিক, অর্থের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। হাঁসনের বিধায়ক কাজল শেখ বলেন, “এত বিপুল কালো টাকা ও সোনা কোথা থেকে এল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কার নির্দেশে তা গচ্ছিত রাখা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।” তিনি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলার আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টুলু মণ্ডলের অবস্থান শনাক্ত করাও এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
২৮.৫ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পর টুলু মণ্ডলের খোঁজে পুলিশের ম্যারাথন তল্লাশি
বীরভূমে ২৮.৫ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালাল পুলিশ। অর্থের উৎস ও প্রকৃত মালিকের খোঁজে জোরদার তদন্ত।