বর্ধমান শহর থেকে জঙ্গি সন্দেহে এক যুবককে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত ব্যক্তি জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তাঁর পরিচয় হামিদ মণ্ডল নামে জানা গেলেও, তিনি ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করতেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে বর্ধমানের রেনেসাঁ কমপ্লেক্সের একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে। এসটিএফ সূত্রের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের আগে তিনি নিউটাউনের একটি আবাসনেও ভাড়া থাকতেন।
তদন্তকারীদের দাবি, নিউটাউনে থাকার সময় ধৃত ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজর রাখতেন। মুখ্যমন্ত্রী যাতায়াত করতেন এমন একাধিক রাস্তায় তিনি রেকি করেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে এসটিএফ সূত্রের দাবি। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও তদন্তকারীরা ধৃতের মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করছেন। এসটিএফের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জইশ-ই-মহম্মদের সন্দেহভাজন হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সমস্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
কয়েকটি সূত্রের দাবি, ধৃত ব্যক্তি আদতে পাকিস্তানের নাগরিক হতে পারেন। যদিও এই তথ্য এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি। তাঁর প্রকৃত পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং ভারতে অবস্থানের বৈধতা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তের স্বার্থে নিউটাউন ও বর্ধমানে যাঁরা তাঁকে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছিলেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। কী উদ্দেশ্যে তিনি পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং তাঁর কার্যকলাপের নেপথ্যে কোনও বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।
পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে প্রাথমিক তদন্তের তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।